Home Blog Page 2

স্টারলিংক থেকে অরবিটাল ডেটা সেন্টার, ১০ লাখ স্যাটেলাইট পাঠাবে ইলন মাস্ক

বাংলা হুড ডেস্ক: ইলন মাস্ক যখন কিছু করতে চান, তখন ছোট করে ভাবেন না। টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিংক—সবেতেই তার স্বাক্ষর আছে। এবার তিনি এমন একটা প্ল্যান নিয়ে এসেছেন যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে—মহাকাশে ১০ লাখ স্যাটেলাইট পাঠানো। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন—দশ লক্ষ!

জানুয়ারি ২০২৬-এ SpaceX আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (FCC)-এর কাছে আবেদন করেছে এই বিশাল স্যাটেলাইট কন্সটেলেশন লঞ্চ করার অনুমতির জন্য। কিন্তু এগুলো শুধু ইন্টারনেট দেওয়ার জন্য নয়—এগুলো হবে “অরবিটাল ডেটা সেন্টার” যা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জন্য কাজ করবে।

স্টারলিংক থেকে অরবিটাল ডেটা সেন্টার

SpaceX-এর স্টারলিংক প্রজেক্ট ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যাটেলাইট অপারেটর। জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯,৪২২টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে আছে এবং এটি পৃথিবীর সব সক্রিয় স্যাটেলাইটের ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে SpaceX-এর পরিকল্পনা আছে প্রায় ১২,০০০ স্যাটেলাইট লঞ্চ করার, এবং পরে সম্ভাব্য সম্প্রসারণে ৩৪,৪০০ পর্যন্ত।

কিন্তু এবারের প্ল্যান সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন এই ১০ লাখ স্যাটেলাইট হবে AI কম্পিউটিং পাওয়ার দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা ডেটা সেন্টার। Engadget-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, SpaceX তাদের FCC ফাইলিংয়ে বলেছে, এই স্যাটেলাইটগুলো সূর্যের শক্তি ব্যবহার করবে এবং কম অপারেটিং খরচে AI-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাবে।

Kardashev II-Level সভ্যতা: মাস্কের স্বপ্ন

GeekWire-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, SpaceX তাদের আবেদনে লিখেছে: “১০ লাখ স্যাটেলাইট লঞ্চ করে অরবিটাল ডেটা সেন্টার তৈরি করা হল Kardashev II-level সভ্যতা হওয়ার প্রথম ধাপ—যে সভ্যতা সূর্যের সম্পূর্ণ শক্তি কাজে লাগাতে পারে।”

Kardashev Scale একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা যা সভ্যতার উন্নতি পরিমাপ করে তাদের এনার্জি ব্যবহারের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে। বর্তমানে মানব সভ্যতা Type I-এও পৌঁছায়নি। Type II মানে হবে আমরা সূর্যের পুরো শক্তি কাজে লাগাতে পারব—এবং মাস্ক মনে করেন এই স্যাটেলাইটগুলো সেই দিকে প্রথম পদক্ষেপ।

কেন অরবিটাল ডেটা সেন্টার?

AI কোম্পানিগুলো এখন একটা বড় সমস্যার মুখোমুখি—বিদ্যুৎ এবং পানির চাহিদা। পৃথিবীতে AI ডেটা সেন্টার চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে এবং কুলিং সিস্টেমের জন্য লক্ষ লক্ষ গ্যালন পানি প্রয়োজন হয়। SpaceX-এর ফাইলিং অনুযায়ী, “অরবিটাল ডেটা সেন্টার সবচেয়ে এফিশিয়েন্ট উপায় AI কম্পিউটিং পাওয়ার মেটানোর—কারণ এগুলো সূর্যের শক্তি সরাসরি ব্যবহার করে এবং অপারেটিং ও মেইনটেনেন্স খরচ খুবই কম।”

মহাকাশে ডেটা সেন্টার করলে কয়েকটা সুবিধা পাওয়া যাবে:

২৪/৭ সূর্যালোক: পৃথিবীতে দিন-রাত আছে, কিন্তু মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রায় সব সময় সূর্যের আলোয় থাকে।

কোনো কুলিং সমস্যা নেই: মহাকাশ ইতিমধ্যেই ঠান্ডা—স্যাটেলাইটগুলো রেডিয়েটর প্যানেল দিয়ে তাপ মুক্ত করে দেবে।

পানির খরচ নেই: পৃথিবীতে ডেটা সেন্টার কুলিংয়ে বিপুল পানি খরচ করে, মহাকাশে সেটা লাগবে না।

কম পরিবেশগত প্রভাব: ফসিল ফুয়েল বা নিউক্লিয়ার পাওয়ারের উপর নির্ভরতা কমবে।

প্ল্যান কতটা বাস্তবসম্মত?

এই মুহূর্তে SpaceX ইতিমধ্যেই ১১,০০০তম স্টারলিংক স্যাটেলাইট লঞ্চ করে ফেলেছে। তবে অরবিটে সক্রিয় স্যাটেলাইট সংখ্যা কিছুটা কম—প্রায় ৯,৬০০। কিছু স্যাটেলাইট ফেইলিওর, ডিওরবিট, বা টেকনিক্যাল সমস্যায় পড়ে।

১০ লাখ স্যাটেলাইট মানে হল বর্তমান সংখ্যার প্রায় ১০০ গুণ বেশি। এটা একটা অসাধারণ স্কেল। তবে মাস্ক নিজেই X-এ বলেছেন এটা “simply scaling up Starlink V3 satellites”—মানে স্টারলিংক V3 স্যাটেলাইটকে স্কেল আপ করলেই হবে।

তবে FCC সব অনুমতি দেবে না—এটা প্রায় নিশ্চিত। অতীতে SpaceX ৩০,০০০ স্যাটেলাইট চেয়েছিল, কিন্তু FCC মাত্র ১৫,০০০ অনুমোদন করেছিল। সম্ভবত এবারও সংখ্যা কমানো হবে।

SpaceX কী বলছে?

SpaceX তাদের ফাইলিংয়ে জানিয়েছে যে তারা কলিশন এভয়েড সিস্টেম এবং লেজার কমিউনিকেশন ব্যবহার করবে যাতে অন্যদের স্যাটেলাইটে ইন্টারফেয়ারেন্স না হয়। এছাড়াও তারা বলেছে, স্যাটেলাইটগুলো লাইফটাইম শেষে নিয়ন্ত্রিতভাবে ডিওরবিট করা হবে।

Astronomy কমিউনিটির সাথেও তারা কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—”brightness mitigation” এবং AI টুল দিয়ে গবেষণায় সাহায্য করবে। তবে অনেকেই মনে করছেন এগুলো শুধু কথার কথা।

xAI এবং IPO কানেকশন

Wall Street Journal-এর সোর্স অনুযায়ী, মাস্ক SpaceX-কে পাবলিক করার কথা ভাবছেন। এর একটা কারণ হল এই অরবিটাল ডেটা সেন্টার প্রজেক্টে আরও বেশি ক্যাপিটাল জোগাড় করা। এছাড়াও, মাস্কের xAI কোম্পানি—যেটা AI নিয়ে কাজ করে—এই স্যাটেলাইট ডেটা সেন্টার থেকে বিশাল বেনিফিট পাবে।

মার্জার আলোচনা চলছে SpaceX এবং xAI-এর মধ্যে, যেখানে এই অরবিটাল ডেটা সেন্টার একটা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।

সোর্স নোট: এই আর্টিকেলের তথ্য Engadget, GeekWire, CNBC, Wikipedia (Starlink), PCMag, Wall Street Journal, এবং SpaceX-এর FCC ফাইলিং থেকে নেওয়া হয়েছে। সব ডেটা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সর্বশেষ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে।

মহাকাশে বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কার, মিলল জীবনের ইঙ্গিত

বাংলা হুড ডেস্ক: বিজ্ঞানীরা মহাকাশে সালফারযুক্ত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবনের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণায় একেবারে নতুন দরজা খুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সালফার এমন একটি উপাদান, যা অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ও এনজাইমের মতো জীবনের মূল উপকরণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই এই আবিষ্কারকে গবেষকরা ‘মিসিং লিঙ্ক’ বলেই বর্ণনা করছেন, কারণ এর মাধ্যমে কসমিক রসায়নের পথ ধরে জীবন কীভাবে গড়ে উঠতে পারে, তা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে।

সালফার মহাবিশ্বে দশম সবচেয়ে বেশি পাওয়া উপাদান হলেও এতদিন পর্যন্ত সালফারযুক্ত বড় অণু মূলত ধুমকেতু ও উল্কাপিণ্ডেই মিলেছিল। নক্ষত্রের মাঝখানে থাকা ধুলা ও গ্যাসের বিশাল মেঘে এমন জটিল অণুর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ফিজিক্সের বিজ্ঞানী মিতসুনোরি আরাকি জানিয়েছেন, সালফার অনেক আগেই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসেছে, অথচ মহাকাশে সালফারযুক্ত অণু এত কম পাওয়া যাওয়া বরাবরই বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের বিষয় ছিল।

এই নতুন আবিষ্কৃত অণুটির নাম 2,5-সাইক্লোহেক্সাডায়াইন-1-থায়ন, যেখানে রয়েছে মোট ১৩টি পরমাণু—এর আগে পাওয়া সবচেয়ে বড় সালফারযুক্ত অণুতে ছিল মাত্র ৯টি পরমাণু। আরাকির কথায়, এত বড় অণুর খোঁজ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সাধারণ মহাজাগতিক রাসায়নিক উপাদান এবং ধুমকেতু ও উল্কাপিণ্ডে পাওয়া জটিল জীবন উপাদানের মধ্যে এক শক্ত যোগসূত্র তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে জীবনের উৎস বুঝতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

নক্ষত্রজন্মস্থান এবং অণুর উৎস

এই অণুটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে G+0.693–0.027 নামের একটি অণুমেঘে পাওয়া গেছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ২৭,০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অণুমেঘগুলো ঠান্ডা ও ঘন, যেখানে ধূলা ও গ্যাসের জমা থাকে এবং যেগুলো নক্ষত্র জন্ম দেয়।

গবেষকরা প্রথমে থায়োফেনল নামের একটি সালফারযুক্ত অণুর উপাদানকে বৈদ্যুতিক ডিসচার্জের মাধ্যমে তৈরি করেন এবং তারপর রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশের ডেটার সঙ্গে তুলনা করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধুমকেতু ও উল্কাপিণ্ডের ধাক্কা এবং সংঘর্ষের মাধ্যমে পৃথিবীতে জটিল অণু এসেছে, যার মধ্যে সালফারযুক্ত অণুও রয়েছে। এটি পৃথিবীতে জীবনের উপাদান আনার একটি সম্ভাব্য উপায় নির্দেশ করে।

সূত্র : CNN

Gold Price Today: ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল

বাংলা হুড ডেস্ক: আজ ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬—সোনার বাজারে আবারও ঝড়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড চলছিল, সেটা আজ নতুন শিখরে পৌঁছেছে। ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আজ প্রতি গ্রাম ১৪,৩৭৮ টাকা, ২২ ক্যারেট ১৩,১৮০ টাকা প্রতি গ্রাম, এবং ১৮ ক্যারেট ১০,৭৮৪ টাকা প্রতি গ্রাম। তবে অন্য কিছু সোর্স অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১৭,৮৮৫ টাকা।

আজকের সোনার দাম শহরভিত্তিক

বিভিন্ন শহরে gold price today কিছুটা ভিন্ন। চেন্নাই সবচেয়ে বেশি দামে আছে—১০ গ্রামে ১,৬৭,৩৯০ টাকা, তারপর হায়দরাবাদ ১,৬৭,১৭০ টাকা এবং বেঙ্গালুরু ১,৬৭,০৪০ টাকা। দক্ষিণ ভারতে দাম সবসময়ই একটু বেশি থাকে উত্তর ভারতের তুলনায়।

মুম্বাইতে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ১,৬৬,৯০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম, দিল্লিতে একই রেট। কলকাতায়ও প্রায় কাছাকাছি দাম। তবে মনে রাখবেন, এগুলো বেস প্রাইস—এর উপর GST, মেকিং চার্জ, এবং অন্যান্য খরচ যোগ হবে।

গত সপ্তাহে কতটা বেড়েছে?

গত সাত দিনে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ২,০০০ টাকা প্রতি গ্রাম বেড়েছে, যা সাপ্তাহিক প্রায় ১৩% বৃদ্ধি। এত দ্রুত বৃদ্ধি দীর্ঘদিনে দেখা যায়নি। গতকালের তুলনায় আজ ২৪K সোনা ৫১৩ টাকা প্রতি গ্রাম এবং ২২K সোনা ৪৭০ টাকা প্রতি গ্রাম বেড়েছে।

গ্লোবালি, সোনা ৫,৫৫০ ডলার প্রতি আউন্স ছাড়িয়ে নতুন অল-টাইম হাই তৈরি করেছে। এটা শুধু ভারতের ঘটনা নয়—পুরো বিশ্বেই সোনার দাম আকাশছোঁয়া।

কেন এত বাড়ছে সোনার দাম?

সোনার দাম বাড়ার পেছনে একটা নয়, অনেকগুলো কারণ কাজ করছে:

১. ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন

ভারত প্রায় সব সোনা আমদানি করে। যখন টাকার দাম ডলারের বিপরীতে কমে যায়, তখন আমদানি খরচ বাড়ে। ফলে দেশীয় বাজারে সোনার দাম বাড়ে। এই মুহূর্তে টাকা দুর্বল, তাই সোনা মহার্ঘ।

২. মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা

মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে মানুষ টাকার বদলে সোনায় বিনিয়োগ করে। কারণ সোনার মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং সময়ের সাথে বাড়ে। যখন ব্যাংক FD-র সুদের হার কমে, তখন লোকেরা সোনায় সরে আসে।

৩. বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা

২০২৫ সালে মার্কিন সরকারের শাটডাউন এবং বাণিজ্য উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোনা একটা “সেফ হ্যাভেন” হিসেবে কাজ করে। মানুষ যখন শেয়ার বাজারে ঝুঁকি দেখে, তখন সোনায় টাকা রাখে।

৪. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের ব্যাংকগুলো, তাদের রিজার্ভে সোনা যোগ করছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা বাজারে সোনার সরবরাহ কমাচ্ছে এবং দাম বাড়াচ্ছে।

৫. উৎসব এবং বিবাহ মৌসুম

ভারতে উৎসব এবং বিবাহ মৌসুমে সোনার চাহিদা ব্যাপক বাড়ে। দিওয়ালি এবং বিবাহ মৌসুমে খুচরা সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। যদিও এখন বিবাহ মৌসুম শেষ, তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে আবার বাড়তে পারে।

রুপোর দামও আকাশে

শুধু সোনা নয়, রুপোর দামও তীব্র বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। মুম্বাইতে রুপো ৩,৮৬,৯৪০ টাকা প্রতি কেজিতে ট্রেড করছে, দিল্লিতে ৩,৮৬,২৭০ টাকা প্রতি কেজি। চেন্নাই এবং হায়দরাবাদে আরও বেশি—প্রায় ৩,৮৮,০৬০ টাকা প্রতি কেজি।

রুপোর দাম বাড়ার কারণ হলো এআই ডেটা সেন্টার এবং সোলার এনার্জি সেক্টরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল চাহিদা বৃদ্ধি, পাশাপাশি শক্ত ফিজিক্যাল সরবরাহ।

এখন কি সোনা কেনার সঠিক সময়?

এটা একটা ট্রিকি প্রশ্ন। যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী হন, তাহলে সোনা সবসময়ই একটা ভালো অপশন। কিন্তু যদি আলংকারিক উদ্দেশ্যে কিনতে চান, তাহলে একটু দাম কমার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এক্সপার্টরা বলছেন, “সোনা এবং রুপো একটা শক্তিশালী এবং টেকসই ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের মধ্যে আছে, প্রায় প্রতিদিন নতুন ট্রিগার দাম বাড়াচ্ছে”। এর মানে হলো, কাছাকাছি সময়ে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

কীভাবে সোনায় বিনিয়োগ করবেন?

শুধু জুয়েলারি নয়, আরও অনেক উপায়ে সোনায় বিনিয়োগ করা যায়:

১. ডিজিটাল গোল্ড: অনলাইনে ছোট পরিমাণে কিনতে পারবেন, কোনো স্টোরেজ টেনশন নেই।

২. সভরেন গোল্ড বন্ড (SGB): সরকার ইস্যু করে, সুদ পাবেন ২.৫% প্রতি বছর, এবং ম্যাচুরিটিতে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ছাড়।

৩. গোল্ড ETF: শেয়ার বাজারের মতো ট্রেড করতে পারবেন, লিকুইডিটি বেশি।

৪. ফিজিক্যাল গোল্ড: কয়েন, বার বা জুয়েলারি—তবে মেকিং চার্জ এবং GST (৩%) লাগবে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • হলমার্ক চেক করুন: BIS হলমার্ক ছাড়া সোনা কিনবেন না, পিউরিটি নিশ্চিত হবে না।
  • বিল রাখুন: ভবিষ্যতে বিক্রি করতে হলে বিল প্রয়োজন।
  • মেকিং চার্জ জানুন: জুয়েলারি কিনলে ৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত মেকিং চার্জ যোগ হবে।
  • GST ভুলবেন না: সব সোনা কেনায় ৩% GST লাগে।

সোর্স নোট: এই আর্টিকেলের তথ্য GoodReturns, Sunday Guardian Live, 5Paisa, Sakshi Post, BankBazaar, এবং PolicyBazaar-এর ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর আপডেট থেকে নেওয়া হয়েছে। দাম দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে এবং শহর ও জুয়েলারভেদে ভিন্ন হতে পারে।

Android 17: ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম

বাংলা হুড ডেস্ক: Google-এর পরবর্তী বড় আপডেট Android 17 নিয়ে টেক কমিউনিটিতে ইতিমধ্যেই বেশ চাঞ্চল্য শুরু হয়ে গেছে। Android 16 এর স্ট্যাবল ভার্সন রোলআউট হওয়ার পরপরই ডেভেলপাররা এবং টেক এনথুসিয়াস্টরা চোখ রেখেছেন আগামী ভার্সনের দিকে। আর লিক এবং আর্লি বিল্ড থেকে যা জানা যাচ্ছে, তাতে Android 17 হতে যাচ্ছে একটা গেম-চেঞ্জার।

Android 17-এর কোডনেম: Cinnamon Bun

Google যদিও Android 10 থেকে পাবলিকলি ডেজার্ট নেম ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে, তবে ইন্টার্নালি এখনও সেই ট্র্যাডিশন বজায় আছে। Android Authority-এর একটি বিশ্বস্ত সোর্স নিশ্চিত করেছে যে Android 17-এর ইন্টার্নাল কোডনেম হলো “Cinnamon Bun”। এটি API লেভেল 37.0 হিসেবে ডেভেলপ হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হলো, Android 15-এর কোডনেম ছিল Vanilla Ice Cream, কিন্তু Android 16 লেটার V ব্যবহার না করে একদম B দিয়ে শুরু করল—Baklava। আর এখন Android 17 আবার C দিয়ে Cinnamon Bun। এই পরিবর্তনটা এসেছে Google-এর নতুন “Trunk Stable” ডেভেলপমেন্ট মডেলের কারণে।

Cinnamon bun মানে সিনামন দিয়ে ভরা মিষ্টি রোল, যা ইউরোপ এবং নর্থ আমেরিকায় খুবই জনপ্রিয়। Google-এর এই নামকরণ হয়তো র‍্যান্ডম মনে হতে পারে, কিন্তু ডেভেলপার কমিউনিটি এই ট্র্যাডিশন বেশ উপভোগ করে।

কখন আসবে Android 17?

Android 17-এর রিলিজ টাইমলাইন মোটামুটি পরিষ্কার। Android 17-এর স্ট্যাবল রিলিজ আসবে জুন 2026-এ, যা Google-এর নতুন দ্রুত রিলিজ সাইকেলের অংশ। Android 16 যেভাবে জুন 2025-এ এসেছিল, Android 17ও একই সময়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেভেলপার প্রিভিউ শুরু হবে নভেম্বর 2025 থেকে—মানে এই মুহূর্তেই কোড লেভেলে কাজ চলছে। বিটা রিলিজ আসবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি 2026-এ। সুতরাং আরও কয়েক মাস পরেই আমরা Android 17 হাতে পাব।

UI ডিজাইনে বড় পরিবর্তন: Material 3 Expressive

Android 17-এর সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হবে ইউজার ইন্টারফেসে। বছরের পর বছর ফ্ল্যাট, সলিড কালার ব্যবহারের পর, Android 17 ট্রান্সলুসেন্ট এবং ব্লার ইফেক্টের দিকে ঝুঁকছে। একে অনেকে Apple-এর Liquid Glass ডিজাইনের সাথে তুলনা করছে, তবে Google-এর অ্যাপ্রোচ বলা হচ্ছে আরও সাটল এবং রিফাইনড।

কী কী জায়গায় ব্লার ইফেক্ট দেখা যাবে?

ভলিউম স্লাইডার, পাওয়ার মেনু, এবং অন্যান্য সিস্টেম ওভারলেতে ট্রান্সলুসেন্ট ইফেক্ট দেখা যাবে যেখানে আপনার ওয়ালপেপার বা অ্যাপ আইকন ব্লার হয়ে দেখাবে। এই ব্লারগুলো আপনার Dynamic Color থিম দিয়ে টিন্টেড হবে, যাতে পুরো UI একসাথে মিলে যায়।

এটা শুধু সুন্দর দেখতে নয়—এর পেছনে একটা লজিক আছে। ব্লার ইফেক্ট depth তৈরি করে এবং ইনফরমেশন প্রসেস করা সহজ করে। ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পূর্ণ লুকিয়ে না ফেলে ব্লার করলে ইউজার জানতে পারে কোন অ্যাপ বা স্ক্রিন চলছে, অথচ ফোকাস থাকে সামনের কাজে।

তবে চিন্তার কিছু নেই—যাদের পুরনো ফোন বা যারা ব্লার পছন্দ করেন না, তারা Settings > Accessibility > Color & motion থেকে “Reduce blur effects” টগল করে ব্লার বন্ধ করতে পারবেন।

গেমারদের জন্য সুখবর: Native Controller Remapping

Android 17-এ মোবাইল গেমিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড় আপডেট আসছে—নেটিভ কন্ট্রোলার বাটন রিম্যাপিং। এটা এতদিন ধরে Android গেমারদের একটা বড় চাওয়া ছিল।

এখন কী সমস্যা?

এই মুহূর্তে Android কন্ট্রোলার ইনপুট ডিটেক্ট করতে পারে, কিন্তু বাটন কাস্টমাইজ করার জন্য কোনো বিল্ট-ইন টুল নেই। হয় গেম নিজে থেকে রিম্যাপিং অপশন দিতে হয়, নয়তো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করতে হয় যেগুলো প্রায়ই ল্যাগ তৈরি করে বা আপডেটের পর কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

Android 17 কীভাবে সমাধান করবে?

Android Canary 2511 বিল্ডে কোড পাওয়া গেছে যা সাজেস্ট করে Android 17 নেটিভ কন্ট্রোলার রিম্যাপিং আনতে পারে। এতে থাকবে:

System-level Permission: android.permission.CONTROLLER_REMAPPING নামে একটা নতুন পারমিশন পাওয়া গেছে যা সিস্টেম-সাইন করা অ্যাপের জন্য রেস্ট্রিক্টেড।

Dedicated Settings Menu: Settings অ্যাপে একটা নতুন “Game Controller Settings” মেনু আসবে যেখানে সব কানেক্টেড গেমপ্যাড দেখা যাবে এবং বাটন রিম্যাপ করা যাবে।

Virtual Gamepad: সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হলো Virtual Gamepad ফিচার। এটা একটা সফটওয়্যার-বেসড কন্ট্রোলার যা আপনার ফিজিক্যাল কন্ট্রোলার এবং গেমের মাঝে বসবে। এটা ইনপুট ইন্টারসেপ্ট করবে, রিম্যাপ করবে, এবং গেমে পাঠাবে।

কাদের জন্য বেনিফিট?

  • Accessibility: প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীরা বাটন রিম্যাপ করে নিজের সুবিধামতো সেট করতে পারবেন
  • Pro Gamers: প্রফেশনাল গেমাররা রিঅ্যাকশন টাইম কমাতে বাটন কাস্টমাইজ করতে পারবেন
  • Emulator Users: যারা রেট্রো গেম খেলেন তারা পুরনো কন্ট্রোল লেআউট ম্যাচ করতে পারবেন
  • Touch-to-Controller Mapping: যেসব গেমে কন্ট্রোলার সাপোর্ট নেই, সেগুলোতেও টাচ কন্ট্রোলকে ফিজিক্যাল বাটনে ম্যাপ করা যাবে

এটা Android-পাওয়ারড হ্যান্ডহেল্ড গেমিং ডিভাইস, ক্লাউড গেমিং, এবং ফিউচার Android PC-এর জন্য বিশাল সুবিধা।

Desktop Mode: মোবাইল থেকে পিসি এক্সপেরিয়েন্স

Android 17 Desktop Mode-কে আরও শক্তিশালী করবে। এতে থাকবে Samsung DeX-এর মতো ফিচার, মাল্টিটাস্কিং সাপোর্ট, রিসাইজেবল উইন্ডো, এবং টাস্কবার।

আপনি আপনার ফোনকে একটা মনিটরে কানেক্ট করলে:

  • PC-স্টাইল টাস্কবার পাবেন
  • ফ্লোটিং উইন্ডো দিয়ে কাজ করতে পারবেন
  • Drag-and-drop সাপোর্ট থাকবে
  • মাউস এবং কীবোর্ড ভালোভাবে কাজ করবে

90:10 স্প্লিট-স্ক্রিন রেশিও আসছে, যা ট্যাবলেট এবং ফোল্ডেবল ডিভাইসে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবে। এটা অনেকটা OnePlus-এর Open Canvas বা OPPO-এর Boundless View-এর মতো।

Live Updates: রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন

Android 17 Live Updates ফিচার সম্পূর্ণভাবে রোলআউট করবে যা Always-On Display, লক স্ক্রিন, স্ট্যাটাস বার, এবং হেডস-আপ নোটিফিকেশনে রিয়েল-টাইম আপডেট দেখাবে।

উদাহরণ: আপনি যদি Uber বুক করেন, তাহলে ড্রাইভার কোথায় আছে, কতক্ষণে পৌঁছাবে—সব রিয়েল-টাইমে লক স্ক্রিনেই দেখতে পাবেন। খুবই সুবিধাজনক।

নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি আপগ্রেড

Local Network Protection

Android 17 একটা বড় প্রাইভেসি ফিচার আনছে—Local Network Protection। এখন যেকোনো অ্যাপ INTERNET পারমিশন পেলে ইন্টারনেট এবং আপনার লোকাল নেটওয়ার্ক উভয়েই অ্যাক্সেস পায়। Android 17-এ অ্যাপকে আলাদা পারমিশন চাইতে হবে লোকাল নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস করার জন্য।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক ম্যালিসিয়াস অ্যাপ আপনার হোম নেটওয়ার্কে থাকা ডিভাইস—যেমন স্মার্ট টিভি, রাউটার, IoT ডিভাইস—অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করে।

Intrusion Logging

আরেকটা নতুন ফিচার হলো Intrusion Logging—যা ডিভাইসের আচরণ মনিটর করবে। নেটওয়ার্ক কানেকশন, USB ইভেন্ট, অ্যাপ ইনস্টলেশন—সব লগ করে সিকিউরলি স্টোর করবে। এতে সাইবার অ্যাটাক ডিটেক্ট করা সহজ হবে।

গ্রাফিক্স এবং পারফরম্যান্স: Vulkan Mandatory

Android 17 থেকে Vulkan গ্রাফিক্স API বাধ্যতামূলক হবে এবং ডেভেলপাররা আর opt-out করতে পারবে না। Vulkan-এর সুবিধা হলো:

  • ভালো গেমিং পারফরম্যান্স
  • Ray tracing সাপোর্ট
  • Multithreading সক্ষমতা
  • কম ব্যাটারি খরচ

Google এটাকে Android-এর GPU hardware abstraction layer হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

Ultra-Wideband (UWB) আপগ্রেড

Google Android-এর UWB স্ট্যাক আপগ্রেড করছে FiRa 3.0 core specification থেকে ফিচার যোগ করে। এতে যোগ হবে:

  • Hybrid UWB scheduling (একসাথে একাধিক UWB অ্যাপ চালানো যাবে)
  • পেমেন্ট সাপোর্ট
  • পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফেয়ার কালেকশন
  • অ্যাক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম

AI-Powered Features: Gemini Integration

Android 17-এ Gemini-পাওয়ারড “Magic Actions” আসবে নোটিফিকেশনে যা কনটেক্সট-অ্যাওয়্যার এবং ইন্টেলিজেন্ট সাজেশন দেবে।

কিছু লিকে AI-বেসড নোটিফিকেশন সামারি দেখা গেছে—মানে লম্বা নোটিফিকেশনকে ছোট করে সামারি দেখাবে। তবে এটা Apple Intelligence-এর মতো সমস্যায় পড়তে পারে কিনা, সেটা দেখার বিষয়।

Screen Recording এবং Blur Effects

সাম্প্রতিক লিকে দেখা গেছে Android 17-এ আপডেটেড স্ক্রিন রেকর্ডার আসবে। এছাড়াও নতুন ব্লার ইফেক্ট টুল আসতে পারে যা ছবি এবং ভিডিও এডিটিংয়ে কাজে আসবে।

HDR Brightness Control

Android 17-এ HDR কন্টেন্টের ব্রাইটনেস কন্ট্রোল করার জন্য একটা স্লাইডার থাকবে। এটা দিয়ে HDR ইমেজে আকাশ বা জলের মতো নির্দিষ্ট এলিমেন্টের ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করা যাবে।

Enhanced HDR এবং Registered App Stores

Google Android 17-এ “Registered App Stores” সাপোর্ট করবে। এই পরিবর্তনগুলো Android 17-এর ইনিশিয়াল রিলিজে বা অন্তত Android 17 QPR2-এ আসবে, যার মানে 2026-এর শেষের মধ্যে।

এতে ইউজাররা Google Play Store ছাড়াও অন্য অথরাইজড স্টোর থেকে সহজে অ্যাপ ইনস্টল করতে পারবে, যা বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের Digital Markets Act-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কোন ডিভাইসে Android 17 পাওয়া যাবে?

Google Pixel ডিভাইসগুলো সবার আগে Android 17 পাবে—সম্ভবত Pixel 6 থেকে শুরু করে সব নতুন মডেল। Samsung, OnePlus, Xiaomi, OPPO, Vivo-এর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোও পাবে, তবে কিছুটা দেরিতে।

Samsung-এর One UI 9.0, Xiaomi-এর HyperOS 4, OnePlus-এর OxygenOS 19—এসব Android 17-এর উপর বেসড হবে।

কেন Android 17 গুরুত্বপূর্ণ?

Android 17 শুধু একটা ইনক্রিমেন্টাল আপডেট নয়। এটা বেশ কিছু জায়গায় ফান্ডামেন্টাল পরিবর্তন আনছে:

  1. UI ডিজাইন: বছরের পর বছর ফ্ল্যাট ডিজাইনের পর একটা ফ্রেশ, মডার্ন লুক
  2. গেমিং: নেটিভ কন্ট্রোলার সাপোর্ট মোবাইল গেমিংকে নতুন লেভেলে নিয়ে যাবে
  3. প্রোডাক্টিভিটি: Desktop Mode এবং স্প্লিট-স্ক্রিন উন্নতি ট্যাবলেট এবং ফোল্ডেবলে কাজ সহজ করবে
  4. প্রাইভেসি: Local Network Protection প্রাইভেসি-সচেতন ইউজারদের জন্য বড় প্লাস
  5. পারফরম্যান্স: Vulkan বাধ্যতামূলক হওয়ায় সব গেম এবং অ্যাপ ভালো পারফর্ম করবে

কিছু অনিশ্চয়তা

মনে রাখতে হবে, এই সব তথ্য লিক এবং আর্লি বিল্ড থেকে আসা। Android 17 আসবে 2026 সালে, কিন্তু এখনও অনেক ফিচার ডেভেলপমেন্ট স্টেজে আছে। Google যেকোনো সময় পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে পারে। কিছু ফিচার শেষ পর্যন্ত না-ও আসতে পারে, আবার নতুন কিছু যোগ হতে পারে।

ফাইনাল ভার্ডিক্ট

Android 17 “Cinnamon Bun” দেখতে গেলে একটা রিফাইনমেন্ট-ফোকাসড রিলিজ হতে যাচ্ছে যেখানে ডিজাইন, সিকিউরিটি, মাল্টিটাস্কিং, এবং কানেক্টিভিটিতে অর্থবহ আপগ্রেড আসবে। পুরো এক্সপেরিয়েন্স র্যাডিকালি পরিবর্তন না করে, Android 17 যা আছে তা পলিশ করবে—বিশেষ করে ফোল্ডেবল, ট্যাবলেট, এবং প্রোডাক্টিভিটি ইউজারদের জন্য।

Material 3 Expressive-এর ট্রান্সলুসেন্ট ডিজাইন, নেটিভ কন্ট্রোলার রিম্যাপিং, Desktop Mode, এবং শক্তিশালী প্রাইভেসি ফিচার—সব মিলিয়ে Android 17 একটা ম্যাচিওর এবং ভার্সেটাইল প্ল্যাটফর্ম হতে যাচ্ছে।

জুন 2026-এর দিকে চোখ রাখুন—Google Android 17 নিয়ে আসবে এবং আমরা দেখব এই লিকগুলোর কতটা সত্য হয়। ততদিন পর্যন্ত, Android 16-এ থাকুন এবং নতুন আপডেটের জন্য অপেক্ষা করুন।


সোর্স নোট: এই আর্টিকেলের সব তথ্য বিশ্বস্ত টেক মিডিয়া সোর্স যেমন Android Authority, GSMArena, Digit India, Android Headlines, এবং অফিসিয়াল Android Canary বিল্ড থেকে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু Android 17 এখনও ডেভেলপমেন্ট স্টেজে, স্পেসিফিকেশন এবং ফিচার পরিবর্তন হতে পারে।

Nothing Phone 4a Pro: ২০২৬ সালের মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনের নতুন সম্ভাবনা

বাংলা হুড ডেস্ক: Nothing কোম্পানির পরবর্তী স্মার্টফোন নিয়ে টেক কমিউনিটিতে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তাদের আসন্ন Nothing Phone 4a Pro মডেলটি ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে আসতে পারে বলে বিভিন্ন সার্টিফিকেশন ডেটাবেস থেকে জানা যাচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক এই স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটি তাদের স্বচ্ছ ডিজাইন এবং Glyph ইন্টারফেসের জন্য ইতিমধ্যে পরিচিত, এবং নতুন ৪a সিরিজেও সেই ঐতিহ্য বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Nothing Phone 4a Pro-এর সম্ভাব্য দাম এবং লঞ্চ

লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, Nothing Phone 4a Pro-এর দাম হতে পারে প্রায় ৫৪০ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৪৯ হাজার টাকা হতে পারে। আর এই দামেই পাওয়া যাবে ১২GB RAM এবং ২৫৬GB স্টোরেজের ভেরিয়েন্ট। Nothing Phone 3a সিরিজ মার্চ ২০২৫ সালে লঞ্চ হয়েছিল, তাই Nothing Phone 4a সিরিজও মার্চ ২০২৬-এ আসতে পারে। এটা Nothing-এর স্বাভাবিক লঞ্চ টাইমলাইনের সাথে মিলে যায়। তবে এগুলো এখনও অফিসিয়াল নিশ্চিতকরণ পায়নি—সব তথ্যই লিক এবং সার্টিফিকেশন ডেটাবেস থেকে আসা।

প্রসেসর এবং পারফরম্যান্স

Nothing Phone 4a Pro-তে Qualcomm Snapdragon 8s Gen 3 প্রসেসর থাকতে পারে, যা একটা শক্তিশালী চিপসেট। এই প্রসেসর মাল্টিটাস্কিং, গেমিং, এবং ব্যাটারি দক্ষতার জন্য দারুণ কাজ করবে। তবে অন্য কিছু লিকে Snapdragon 7 series চিপসেটের কথাও বলা হয়েছে—সম্ভবত Snapdragon 7 Gen 4 অথবা 7s Gen 4। প্রসেসর নিয়ে লিকগুলোতে কিছুটা গোলমাল আছে, তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার—Nothing Phone 4a Pro পারফরম্যান্সে কোনো আপস করবে না। ১২GB RAM থাকায় মাল্টিটাস্কিং মসৃণ হবে, আর ২৫৬GB UFS 3.1 স্টোরেজ দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করবে।

ডিসপ্লে এবং ডিজাইন

ডিসপ্লে হবে প্রায় ৬.৮ ইঞ্চির AMOLED প্যানেল, ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেটসহ। এত উচ্চ রিফ্রেশ রেট মানে স্ক্রলিং এবং গেমিং অভিজ্ঞতা হবে অত্যন্ত মসৃণ। কিছু সোর্স বলছে ডিসপ্লে সাইজ ৬.৮২ ইঞ্চি বা ৬.৮৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। Nothing-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো তাদের স্বচ্ছ ডিজাইন। Nothing Phone 4a Pro এবং 4a উভয়ই ব্র্যান্ডের স্বচ্ছ ডিজাইন এবং Glyph Interface বজায় রাখবে। এই Glyph লাইট শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, নোটিফিকেশন, চার্জিং স্ট্যাটাস, এবং অন্যান্য ইনফরমেশনের জন্যও কাজ করে। রঙের অপশন হিসেবে ফোনটি নীল, কালো, সাদা এবং গোলাপী ভেরিয়েন্টে আসতে পারে। গোলাপী রঙটা নতুন যোগ হচ্ছে, যা অনেক ইউনিক কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে পারে।

ক্যামেরা সিস্টেম

ক্যামেরা সিস্টেম নিয়ে লিকে বলা হচ্ছে, Nothing Phone 4a Pro-তে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ থাকবে—৫০MP মেইন লেন্স, ৫০MP আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর, এবং ৫০MP টেলিফটো লেন্স যার সাথে ৩x অপটিক্যাল জুম। সামনের ক্যামেরাও হবে ৫০MP-এর, যা সেলফি প্রেমীদের জন্য দারুণ। তবে অন্য কিছু সোর্স ৬৪MP মেইন ক্যামেরা, ৮MP আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স, এবং ৫০MP টেলিফটো ক্যামেরার কথা বলছে। যাই হোক, Nothing-এর AI-বেসড ফটোগ্রাফি এনহান্সমেন্ট থাকবে, যা লো-লাইট এবং পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে সাহায্য করবে।

ব্যাটারি এবং চার্জিং

ব্যাটারি লাইফ একটা বড় হাইলাইট হতে যাচ্ছে। Nothing Phone 4a Pro-তে ৫,৫০০mAh ব্যাটারি থাকতে পারে ৮০W ফাস্ট চার্জিং এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্টসহ। এটা আগের Phone 3a Pro-এর ৫,০০০mAh থেকে বেশ বড় আপগ্রেড। তবে সাম্প্রতিক সার্টিফিকেশনে ৫,০৮০mAh ব্যাটারি দেখা গেছে ৫০W চার্জিং স্পিডের সাথে। এটা Phone 3a Pro-এর তুলনায় খুব সামান্য বৃদ্ধি, কিন্তু চার্জিং স্পিড একই থাকছে। লিকগুলোতে এই তথ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে—অফিসিয়াল লঞ্চের পরই পরিষ্কার হবে।

সফটওয়্যার এবং আপডেট সাপোর্ট

Nothing Phone 4a Pro চলবে Android 16-এর উপর ভিত্তি করে Nothing OS 4.0-এ। এটি সম্ভবত প্রথম স্মার্টফোন যা Nothing OS 4.0-এর সাথে লঞ্চ হবে, যা একটা বড় সুবিধা। এর মানে ইউজাররা অন্য কম্পিটিটরদের থেকে কয়েক মাস আগেই Android 16-এর ফিচার পাবে। সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে, Nothing তিন বছরের OS আপডেট এবং ছয় বছরের সিকিউরিটি প্যাচ গ্যারান্টি দিচ্ছে। এটা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য দারুণ—আপনার ফোন অনেক বছর আপডেট পাবে। Nothing OS 4.0-এ থাকবে Extra Dark Mode (যা চোখের চাপ কমাবে এবং ব্যাটারি বাঁচাবে), Pop-up View (ফ্লোটিং অ্যাপ আইকনের জন্য), এবং উন্নত মাল্টিটাস্কিং ফিচার। লকস্ক্রিন রেসপন্সিভনেস, ব্রাইটনেস কন্ট্রোল, এবং কানেক্টিভিটি অপশনেও উন্নতি হয়েছে।

IP রেটিং এবং ডিউরেবিলিটি

Nothing Phone 4a Pro-এর IP65 রেটিং থাকবে, যা আগের জেনারেশনের IP64 থেকে আপগ্রেড। এর মানে ফোনটি বৃষ্টি বা পানির স্প্রে থেকে ভালো সুরক্ষা পাবে। তবে সাবমার্সন (পানিতে ডোবানো) থেকে সুরক্ষা এখনও যথেষ্ট নয়। ধুলো-বালির বিরুদ্ধে সুরক্ষা টপ-নচ থাকবে। রিপেয়ারেবিলিটি স্কোর মিড-লেভেল হবে বলে আশা করা হচ্ছে, অর্থাৎ সার্ভিসিংয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না।

eSIM সাপোর্ট

Nothing Phone 4a Pro-তে eSIM সাপোর্ট থাকবে, যেমনটা বর্তমান 3a Pro-তে আছে। এটা বিদ্যমান কাস্টমারদের নতুন ভেরিয়েন্টে মসৃণভাবে ট্রানজিশনের সুবিধা দেবে। তবে স্ট্যান্ডার্ড Nothing Phone 4a মডেলে eSIM থাকবে না।

কেন Nothing Phone 4a Pro কিনবেন?

১. শক্তিশালী পারফরম্যান্স চান মিড-রেঞ্জ দামে: Snapdragon 8s Gen 3 (যদি সত্য হয়) ফ্ল্যাগশিপ-লেভেল পারফরম্যান্স দেবে মিড-রেঞ্জ দামে।

২. ইউনিক ডিজাইন পছন্দ করেন: স্বচ্ছ বডি এবং Glyph লাইট অন্য কোনো ফোনে নেই।

৩. দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার সাপোর্ট চান: তিন বছরের OS আপডেট এবং ছয় বছরের সিকিউরিটি প্যাচ।

৪. বড় ব্যাটারি এবং ফাস্ট চার্জিং প্রয়োজন: ৫,৫০০mAh ব্যাটারি (বা ৫,০৮০mAh) এবং ফাস্ট চার্জিং সারাদিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট।

৫. Android 16 সবার আগে চান: Nothing Phone 4a Pro সম্ভবত প্রথম ফোন হবে যা Android 16-এর সাথে আসবে।

5080mAh ব্যাটারি ও ফাস্ট চার্জিং, মিড-রেঞ্জে ধামাকা করতে আসছে Nothing ফোন

বাংলা হুড ডেস্ক: মিড-রেঞ্জে নতুন স্মার্টফোন নেওয়ার কথা ভাবছেন? তাহলে এই খবরটা আপনার জন্যই। বাজারে নিজেদের জায়গা আরও শক্ত করতে চলেছে Nothing, আর সেই লক্ষ্যেই আসছে তাদের নতুন ফোন Nothing Phone 4a Pro। যদিও এখনও অফিসিয়াল ঘোষণা হয়নি, তবে ইউরোপের একাধিক সার্টিফিকেশন নথি ঘেঁটে ফোনটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্পেসিফিকেশন সামনে এসেছে। সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো ব্যাটারি ও চার্জিং সেকশন—এখানেই বড় আপগ্রেডের ইঙ্গিত মিলছে। সব মিলিয়ে, মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে Nothing এবার সত্যিই বড় চমক দিতে চলেছে বলেই মনে করছেন টেক মহল।

ব্যাটারিতে বিরাট চমক

ইউরোপিয়ান প্রোডাক্ট রেজিস্ট্রি ফর এনার্জি লেবেলিংয়ে প্রকাশিত তথ্য বলছে, Nothing Phone 4a Pro-তে থাকতে পারে বড়সড় 5080mAh ব্যাটারি, যা এই সিরিজের আগের মডেলগুলোর তুলনায় স্পষ্টতই আপগ্রেড। শুধু তাই নয়, ফোনটি 50W ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে চার্জ দিতে আর অতটা সময় নষ্ট হবে না। আরও ভালো খবর হলো, প্রায় 1400টি সম্পূর্ণ চার্জ সাইকেল পার হওয়ার পরেও এই ব্যাটারি 80 শতাংশ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে সার্টিফিকেশন রিপোর্টে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ফোন ব্যবহার করলেও ব্যাটারির পারফরম্যান্স দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা কম। দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা মাথায় রেখেই Nothing যে এই দিকটায় বিশেষ জোর দিচ্ছে, তা বলাই যায়।

সফটওয়্যার এবং আপডেট সাপোর্ট

Nothing Phone 4a Pro চলবে অ্যান্ড্রয়েডে, যদিও এখনো ঠিক কোন ভার্সন হবে সেটা বলা হয়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে লঞ্চের সময় একদম লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন দেবে। আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, পুরো পাঁচ বছর ধরে সফটওয়্যার আর সিকিউরিটি আপডেট পাবেন—যেটা এখনকার দিনে প্রায় সব কোম্পানিই দিচ্ছে।

লিক অনুযায়ী, ফোনে IP65 রেটিং থাকবে, মানে বৃষ্টিতে ভিজলে বা ধুলোবালিতে কোনো সমস্যা নেই। আর রিপেয়ার করতে হলেও খুব একটা ঝামেলা হবে না—মিড-লেভেল রিপেয়ারেবিলিটি স্কোর দেওয়া হচ্ছে। রংয়ের দিক থেকেও বেশ অপশন পাবেন: কালো, নীল, গোলাপী আর সাদা।

দাম কত এই মডেলের?

লিক থেকে জানা যাচ্ছে, Nothing Phone 4a Pro-এর দাম পড়তে পারে প্রায় 540 ডলার, মানে আমাদের টাকায় ধরুন 49 হাজারের কাছাকাছি। এই দামেই পাবেন 12GB RAM আর 256GB স্টোরেজ। যদি আপনি এমন একটা ফোন খুঁজছেন যেটায় বড় ব্যাটারি আছে, দ্রুত চার্জিং হয়, আর বছরের পর বছর সফটওয়্যার আপডেট পাবেন—তাহলে এটা বেশ ভালো অপশন হতে পারে।

Padma Award 2026 প্রাথমিক তালিকা: রাজ্য ও ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রাপকদের নাম

বাংলা হুড ডেস্ক: ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে সেই সকল বীরদের নাম রয়েছে যাদের এই বছর ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্ম পুরস্কারে ভূষিত করা হবে (Padma Award)। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার আজ সন্ধ্যায় পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করবে। পদ্ম পুরস্কার প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষণা করা হয় এবং এটি তিনটি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয়—ব্যতিক্রমী ও বিশিষ্ট সেবার জন্য পদ্ম বিভূষণ, উচ্চ স্তরের বিশিষ্ট সেবার জন্য পদ্মভূষণ, এবং যেকোনো ক্ষেত্রে বিশিষ্ট সেবার জন্য পদ্মশ্রী। এবার মোট ১৩৯ জনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন পদ্মবিভূষণ, ১৯ জন পদ্মভূষণ এবং ১১৩ জন পদ্মশ্রী।

সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারের প্রাথমিক তালিকায় সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা, চিকিৎসা, শিল্পকলা ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন অঙ্কে গৌড়া, ব্রজলাল ভট্ট, বুদ্রি থাডি, ভগবান দাস রায়কোয়ার, ধরম লাল চুন্নি লাল পান্ডিয়া, ডঃ শ্যাম সুন্দর, চরণ হেমব্রম এবং কে পাঝানিভেল। পদ্মশ্রী ২০২৬-এর জন্য আলোচনায় থাকা নামগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ু থেকে ডঃ পুণ্যমূর্তি নাটেসান, রাজস্থান থেকে গফফারউদ্দিন মেওয়াতি, মহারাষ্ট্র থেকে ডঃ আর্মিদা ফার্নান্দেজ এবং ভিকল্যা লাডক্যা ধিন্দা, উত্তরপ্রদেশ থেকে চিরঞ্জি লাল যাদব, তেলঙ্গনা থেকে ডঃ কুমারস্বামী থাঙ্গারাজ এবং জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ডঃ পদ্ম গুরমেট। সরকার আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।

প্রাক্তন পুরুষ হকি অধিনায়ক পি আর শ্রীজেশকে পদ্মভূষণের জন্য মনোনীত করা হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেট তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন পদ্মশ্রী বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন। ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) জগদীশ সিং খেহর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়েছে।

ঘরের ৪টি জায়গা যেখানে রাউটার রাখলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়

0

বাংলা হুড ডেস্ক: আপনার ঘরের ইন্টারনেট বারবার স্লো বা হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে? অনেকেই প্রথমে ভাবেন, সমস্যা নিশ্চয়ই সার্ভিস প্রোভাইডারের। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি সাধারণ কারণেও হতে পারে—আপনার ওয়াইফাই রাউটারের অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও আপনার কাছে উচ্চমানের রাউটার বা দামি ইন্টারনেট প্যাকেজ আছে, ভুল জায়গায় রাখার কারণে স্পিড কমে যেতে পারে। তাই ভালো স্পিড পেতে রাউটার স্থাপন করা উচিত এমন জায়গায়, যেখানে সিগন্যাল সহজে বাড়িতে ছড়াতে পারে।

কেন রাউটার রাখার জায়গা এত গুরুত্বপূর্ণ?

ওয়াইফাই সিগন্যাল চোখে দেখা যায় না, তাই আমরা প্রায়ই বুঝতেই পারি না এটি দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সঙ্গে কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে। বাস্তবতা হলো, দূরত্ব, দেয়াল, ধাতব বস্তু ও অন্যান্য ডিভাইসের সৃষ্টি করা ইন্টারফিয়ারেন্স রাউটারের সিগন্যাল দুর্বল বা অনির্ভরযোগ্য করে দিতে পারে। যদি রাউটার এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে সিগন্যাল সহজে ছড়াতে পারে না, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ইন্টারনেটের গতি কমে যাবে।

যেসব জায়গায় রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়

১. টিভির পেছনে বা খুব কাছে
অনেকেই রাউটার রাখেন টিভির পাশে বা পেছনে, কিন্তু টিভির ধাতব প্লেট ও ভেতরের যন্ত্রাংশ ওয়াইফাই সিগন্যালের বড় বাধা। ফলে সিগন্যালের গতি ও স্থায়িত্ব দুটোই কমে যায়।

২. আলমারি বা বন্ধ জায়গার ভেতর
রাউটার কখনো আলমারি, বুকশেলফ বা কোনো বন্ধ জায়গার মধ্যে রাখা উচিত নয়। এই ধরনের বাধা সিগন্যাল ঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়।

৩. তলায় বা অনেক দূরে
যদি রাউটার ঘরের অন্য তলায় থাকে, সিগন্যালের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কারণ ওয়াইফাই সিগন্যালের জন্য মেঝে, কার্পেট বা পানির পাইপলাইন অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৪. একাধিক রাউটার বা একই ফ্রিকোয়েন্সির ডিভাইসের পাশে
ঘরের ২.৪ গিগাহার্টজ বা ৫ গিগাহার্টজে কাজ করা অন্যান্য ডিভাইস এবং একাধিক রাউটার একে অপরের সিগন্যালকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাহলে রাউটার রাখার সবচেয়ে ভালো জায়গা কোনটি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাউটার ঘরের খোলা জায়গায় এবং কিছুটা উঁচু স্থানে রাখা সবচেয়ে ভালো। ঘরের মাঝামাঝি কোনো জায়গায় রাখলে আরও সুবিধা হয়, কারণ তখন রাউটার চারপাশে সমানভাবে সিগন্যাল ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে রাউটার জানালা বা দরজার একদম কাছে রাখলে অনেক সিগন্যাল বাইরে চলে যেতে পারে। যদি রাউটারের অ্যান্টেনা ঘোরানো যায়, সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিকে সেট করলে সিগন্যাল আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

শেষ কথা

ইন্টারনেট স্লো হওয়ার পেছনে সব সময় সার্ভিস প্রোভাইডার দায়ী, বিষয়টি আসলে এমন নয়। অনেক সময় রাউটার কোথায় রাখা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাউটার রাখার জায়গায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই ইন্টারনেটের গতি ও স্থায়িত্বে বড় পার্থক্য পাওয়া সম্ভব।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন? লেটেস্ট সিকিউরিটি আপডেট না করলে ঝুঁকি!

বাংলা হুড ডেস্ক: অ্যান্ড্রয়েড ফোন একটু পুরোনো হলে প্রায় সবাই মুখোমুখি হয় পরিচিত সমস্যার—‘স্টোরেজ ফুল’। ছবি, ভিডিও, অ্যাপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফাইলের মধ্যে কী রাখা হবে আর কী মুছে ফেলা যাবে, তা ঠিক করতে গিয়ে অনেক সময় কেটে যায়। পছন্দের মুহূর্তগুলো হারাতে চাইলেও কেউ নতুন কিছু ডিলিট করতে চায় না। কিন্তু এই সময়ই আমরা প্রায়ই ভুলে যাই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম (OS) আপডেট করা, যা ফোনের পারফরম্যান্স ও স্টোরেজ ব্যবস্থাকে অনেকটা সহজ করে দিতে পারে।

কিন্তু এই অবহেলা বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। শুধু ফোনের পারফরম্যান্সই নয়, ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতের সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন (Computer Emergency Response Team-India)। সংস্থাটি বিশেষভাবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের দ্রুত লেটেস্ট সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তথ্য চুরি বা ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন নিয়ে কী সতর্কবার্তা দিল সার্ট-ইন?

সার্ট-ইনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি প্যাচ লেভেল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপডেট করা জরুরি। সংস্থার মতে, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে একটি গুরুতর নিরাপত্তা ফাঁক ধরা পড়েছে, যা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে টার্গেট করে সাইবার আক্রমণ চালানো সম্ভব। এমন আক্রমণে ডিভাইসের মেমোরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সিস্টেম ক্র্যাশ করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষভাবে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস আক্রান্ত হয়, তাহলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনা আরও বাড়ে।

আপডেট না করলে কোথায় ঝুঁকি?

সার্ট-ইন সতর্ক করে জানাচ্ছে, যারা লেটেস্ট সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করবেন না, তাদের ফোন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস হ্যাকারদের আক্রমণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিশেষ করে এই নিরাপত্তা ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ডলবি ডিজিটাল প্লাস ইউনিফায়েড ডিকোডার, যা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে মিডিয়া প্রসেসিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। এই টুলে ধরা পড়া সমস্যা থেকেই তৈরি হয়েছে সাইবার ঝুঁকি, যার ফলে ডিভাইসের তথ্য ফাঁস বা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ডলবি কী বলছে?

ডলবি সমস্যার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছে, বিষয়টি যতটা ভয়াবহ বলে প্রচার হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নাও হতে পারে। তাদের মতে, সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হলো মিডিয়া প্লেয়ার ক্র্যাশ করা । এ ছাড়া ফোন অটো রিস্টার্ট নিতে পারে। তবে পুরো সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই দাবি Dolby-এর।

গুগলের অবস্থান

গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে। বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে গুগল পরবর্তীতে নতুন সিকিউরিটি আপডেট প্রকাশ করে। ৫ জানুয়ারির সিকিউরিটি বুলেটিনে এই ত্রুটির কথা উল্লেখ করে রোলআউট করা হয়েছে, এবং সার্ট-ইন এখন ব্যবহারকারীদের এই আপডেট দ্রুত ইনস্টল করার পরামর্শ দিচ্ছে, যাতে ডিভাইসের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো যায়।

ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টোরেজ বাঁচাতে গিয়ে সিকিউরিটি আপডেট এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ছবি বা অ্যাপ মুছে হলেও নিয়মিত OS ও সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করা উচিত। কারণ একটি ছোট আপডেটই পারে আপনার ফোনকে বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।

ভারতের উপর চাপানো ২৫% শুল্ক তুলে নেওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যার ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ পৌঁছে গিয়েছিল ৫০ শতাংশে। তবে শোনা যাচ্ছে, নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সম্পর্ক এখন ধীরে ধীরে মধুর হচ্ছে, এবং খুব শীঘ্রই এই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কের বোঝা ভারতের উপর থেকে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট এই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা বাণিজ্য সম্পর্কের একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত আমেরিকার?

ভারতের উপর আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কারণ মোটামুটি সবারই জানা। রাশিয়া থেকে বড় ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কেনার অভিযোগে দুই দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই শুল্কের অর্ধেক অংশ তুলে নেয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। আমেরিকার অর্থ সচিব পলিটিকোকে জানিয়েছেন, “ভারতের উপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে আমেরিকা অত্যন্ত সফল হয়েছে। নয়া দিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধই করে দিয়েছে। শুল্ক এখনও কার্যকর আছে, তবে মনে হয় এবার এটাকে তুলে নেওয়ার সময় এসেছে এবং সেই পথ ধীরে ধীরে খোলা হচ্ছে।”

এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশগ্রহণকালে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একই বক্তব্য রেখেছিলেন মার্কিন অর্থ সচিব। এছাড়াও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন এবং দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধই করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, নয়া দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক বেসরকারি রিপোর্ট দাবি করছে, বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে ভারত। যদিও এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এর আগে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনা এবং ওই লেনদেনের মধ্যে দিয়ে মস্কোকে যুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুললেও নয়া দিল্লির বক্তব্য ছিল, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে যা করার দরকার করব আমরা।” এদিকে বারবার ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও, মুখে কুলুপ মোদি সরকারের।