Home Blog Page 4

আজ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ৬১ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত

বাংলা হুড ডেস্ক, বাংলাদেশঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার চাকরিপ্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৪,৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১০ লাখ ৮০,০৮০টি। এর ফলে গড়ে প্রতিটি পদের জন্য প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় নামেছেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার কারণে ২ জানুয়ারি নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পরীক্ষার্থীদের সুবিধা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় বিবেচনায় নিয়ে আজ বিকেলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। দুপুর ২টার মধ্যে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে এবং আড়াইটায় কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেউ কেন্দ্র ত্যাগ করতে পারবে না।

পরীক্ষা কেন্দ্রে বই, নোট, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ঘড়ি ও ব্যাগ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষার্থীদের উভয় কান খোলা রাখতে হবে এবং উত্তরপত্রে শুধু কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।

ওএমআর শিট সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত সেট কোড থাকবে, যা প্রবেশপত্রে উল্লেখ আছে। এই কোড অনুসরণ না করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব প্রসঙ্গে ডিপিই জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে ছয় বিভাগে ১০,২১৯টি পদের বিপরীতে ৭,৪৫,৯২৯টি আবেদন পড়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪,১৬৬টি পদের বিপরীতে ৩,৩৪,১৫১টি আবেদন জমা পড়েছে।

ভারতীয় পর্যটকরা বাংলাদেশে সীমিত ভিসা পাবেন, জানা গেল কী কারণে

বাংলা হুড ডেস্ক, বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সীমিত’ পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের বাংলাদেশি উপদূতাবাসগুলোতে পর্যটক ভিসা প্রদানে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। এর আগে দিল্লির দূতাবাস এবং আগরতলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অফিস থেকেও ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকরা শুধুমাত্র গুয়াহাটির অ্যাসিস্টেন্ট হাইকমিশনার অফিস থেকে বাংলাদেশের ভিসা পেতে পারবেন।

বাংলাদেশের উপদূতাবাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। তবে সূত্র জানিয়েছে, বুধবার থেকে পর্যটক ভিসা দেওয়া ‘সীমিত’ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যদিও পর্যটক ভিসা এখন সীমিত, বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ধরণের ভিসা চালু রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে দেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে থাকা চারটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে ভাঙচুর করা হয়েছিল। ঢাকাতেও ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েকদিন ভারত সমস্ত ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। বিবিসি জানিয়েছে, পরবর্তীতে ভিসা সেন্টারগুলো চালু হলেও ভারত শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসা এবং কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য ভিসা ইস্যু করবে না। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সরকার এলপি গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট কমাল, দাম স্থিতিশীল করতে উদ্যোগ

বাংলা হুড ডেস্ক, বাংলাদেশঃ সরকার এলপি গ্যাসের আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমদানি করা এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে, আর স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ক্রমবর্ধমান এলপি গ্যাস সংকট এবং মূল্য অস্থিরতা। পাশাপাশি, আমদানিতে ব্যাংক ঋণ এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়াও সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহের খাত আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিনফুয়েল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠায়। একই দিনে, এলপিজি আমদানির জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিতে ঋণ প্রাপ্তি এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার আবেদনসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একটি চিঠিও দেন।

এনবিআরকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্প খাত ও গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। সাধারণত শীতকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও হ্রাস পায়, ফলে এলপি গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, যার ফলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

ভারতের ওপর শুল্কের হুঁশিয়ারি, রাশিয়ার তেল ও ইউরেনিয়াম কেনার দায়ে ৫০০% শুল্ক

বাংলা হুড ডেস্কঃযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি বিল পাসে সম্মতি দিয়েছেন। এই বিল পাস হলে ভারত, চীন, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, যারা রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, এই ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’-এর লক্ষ্য হলো রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মূলত ‘গ্রাহাম-ব্লুমেনথাল বিল’টি তৈরি করেছেন। বিল অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য কিনছে এমন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থের প্রধান উৎস বন্ধ করা। বিল পাস হলে যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল বা ইউরেনিয়াম কিনছে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা, যাতে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হন। সিনেটর গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। তার মতে, ইউক্রেন শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে, তখনই পুতিনকে দমাতে এই বিল আনা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যে ভারত ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ আগেই রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত ছিল। নতুন এই বিল পাস হলে শুল্কের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলবে।

শীতের দাপট বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে, ৮ জেলায় সতর্কতা জারি

রাজ্যে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি কমে নেমে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে (Weather Update)। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি এমন ঠান্ডা নতুন নয়, তবে কনকনে শৈত্যপ্রবাহের কারণে এবারের ঠান্ডা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি কষ্টদায়ক মনে হচ্ছে।

এখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী হয়ে ডিপ্রেশনে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি ত্রিপুরা ও তার আশেপাশের এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইবে, যার ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কনকনে শীত অন্তত আগামী ৪ দিন পর্যন্ত থাকবে। চলুন এক নজরে দেখা যাক আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া (Weather Update)

তাপমাত্রার পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কলকাতায় এই ধরনের ঠান্ডা নতুন নয়। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও পিছনে গেলে দেখা যায়, ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬.৭ ডিগ্রি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাবেও জানুয়ারিতে ঠান্ডার ওঠানামা চোখে পড়ার মতো—২০২৩ সালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৯ ডিগ্রি, আর ২০১৮ সালে তা নেমেছিল ১০.৫ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে জানুয়ারি মাসে কলকাতার তাপমাত্রা মূলত ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে।

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় শীতের দাপট বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলিতেও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষকে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

উত্তরবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া

আগামীকালও উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় শীতের দাপট বজায় থাকবে। গোটা সপ্তাহ জুড়ে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে, তবে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা প্রায় সব জেলায় থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে সতর্কতার মাত্রা একটু বেশি—আগামী কয়েক দিনে অধিকাংশ জেলায় ঘন কুয়াশা নামতে পারে, যেখানে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ‘শীতল দিন’ বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

দক্ষিণবঙ্গে শীত আরও বাড়বে? আগামী ৩ দিনের আবহাওয়ার বড় আপডেট

চলতি মরসুমের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেল বছরের শেষ দিনের ঠান্ডা। বুধবার ভোরে কলকাতায় এক ধাক্কায় তাপমাত্রা নেমে আসে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এখনও পর্যন্ত এই মরসুমের সবচেয়ে শীতল দিন। এর আগে মঙ্গলবার শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, তবে বুধবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা, যার জেরে বহু জায়গায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবার এক ধাক্কায় নেমে আসে ১১ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পারদ কমেছে প্রায় ১.৬ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৮ ডিগ্রি কম। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৯.৬ ডিগ্রির বেশি ওঠেনি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫.৮ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। তবে দুপুর গড়াতেই আকাশ পরিষ্কার হবে এবং মেঘের দেখা মিলবে না।

গত কয়েক দিনে শহরে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। অনেকেই মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এমন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হয়েছিল। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলেও এবারের শীত যেন অনেকটাই আলাদা ও বেশি কড়া। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, উত্তুরে হাওয়ার চলাচলে এই মুহূর্তে কোনও বাধা না থাকায় রাজ্য জুড়ে তা অবাধে ঢুকছে, আর তার প্রভাবেই তাপমাত্রা আরও নামছে। উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক—কোচবিহার, জলপাইগুড়ির মতো এলাকায় বিকেলের দিকে কুয়াশার দাপটে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সব এলাকায় দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে কমে ৫০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বা়ড়তে পারে। বুধবারের পর থেকেই পারদ চড়তে পারে দুই থেকে তিন ডিগ্রি। তবে হাড় কাঁপানো ঠান্ডার হাত থেকে তাতে কতটা রেহাই মিলবে, স্পষ্ট নয়।