বাংলা হুড ডেস্ক: আজ ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬—সোনার বাজারে আবারও ঝড়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড চলছিল, সেটা আজ নতুন শিখরে পৌঁছেছে। ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আজ প্রতি গ্রাম ১৪,৩৭৮ টাকা, ২২ ক্যারেট ১৩,১৮০ টাকা প্রতি গ্রাম, এবং ১৮ ক্যারেট ১০,৭৮৪ টাকা প্রতি গ্রাম। তবে অন্য কিছু সোর্স অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১৭,৮৮৫ টাকা।
আজকের সোনার দাম শহরভিত্তিক
বিভিন্ন শহরে gold price today কিছুটা ভিন্ন। চেন্নাই সবচেয়ে বেশি দামে আছে—১০ গ্রামে ১,৬৭,৩৯০ টাকা, তারপর হায়দরাবাদ ১,৬৭,১৭০ টাকা এবং বেঙ্গালুরু ১,৬৭,০৪০ টাকা। দক্ষিণ ভারতে দাম সবসময়ই একটু বেশি থাকে উত্তর ভারতের তুলনায়।
মুম্বাইতে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ১,৬৬,৯০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম, দিল্লিতে একই রেট। কলকাতায়ও প্রায় কাছাকাছি দাম। তবে মনে রাখবেন, এগুলো বেস প্রাইস—এর উপর GST, মেকিং চার্জ, এবং অন্যান্য খরচ যোগ হবে।
গত সপ্তাহে কতটা বেড়েছে?
গত সাত দিনে ২৪ ক্যারেট সোনা প্রায় ২,০০০ টাকা প্রতি গ্রাম বেড়েছে, যা সাপ্তাহিক প্রায় ১৩% বৃদ্ধি। এত দ্রুত বৃদ্ধি দীর্ঘদিনে দেখা যায়নি। গতকালের তুলনায় আজ ২৪K সোনা ৫১৩ টাকা প্রতি গ্রাম এবং ২২K সোনা ৪৭০ টাকা প্রতি গ্রাম বেড়েছে।
গ্লোবালি, সোনা ৫,৫৫০ ডলার প্রতি আউন্স ছাড়িয়ে নতুন অল-টাইম হাই তৈরি করেছে। এটা শুধু ভারতের ঘটনা নয়—পুরো বিশ্বেই সোনার দাম আকাশছোঁয়া।
কেন এত বাড়ছে সোনার দাম?
সোনার দাম বাড়ার পেছনে একটা নয়, অনেকগুলো কারণ কাজ করছে:
১. ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন
ভারত প্রায় সব সোনা আমদানি করে। যখন টাকার দাম ডলারের বিপরীতে কমে যায়, তখন আমদানি খরচ বাড়ে। ফলে দেশীয় বাজারে সোনার দাম বাড়ে। এই মুহূর্তে টাকা দুর্বল, তাই সোনা মহার্ঘ।
২. মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা
মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে মানুষ টাকার বদলে সোনায় বিনিয়োগ করে। কারণ সোনার মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং সময়ের সাথে বাড়ে। যখন ব্যাংক FD-র সুদের হার কমে, তখন লোকেরা সোনায় সরে আসে।
৩. বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা
২০২৫ সালে মার্কিন সরকারের শাটডাউন এবং বাণিজ্য উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সোনা একটা “সেফ হ্যাভেন” হিসেবে কাজ করে। মানুষ যখন শেয়ার বাজারে ঝুঁকি দেখে, তখন সোনায় টাকা রাখে।
৪. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনাকাটা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে উদীয়মান বাজারের ব্যাংকগুলো, তাদের রিজার্ভে সোনা যোগ করছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা বাজারে সোনার সরবরাহ কমাচ্ছে এবং দাম বাড়াচ্ছে।
৫. উৎসব এবং বিবাহ মৌসুম
ভারতে উৎসব এবং বিবাহ মৌসুমে সোনার চাহিদা ব্যাপক বাড়ে। দিওয়ালি এবং বিবাহ মৌসুমে খুচরা সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। যদিও এখন বিবাহ মৌসুম শেষ, তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে আবার বাড়তে পারে।
রুপোর দামও আকাশে
শুধু সোনা নয়, রুপোর দামও তীব্র বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। মুম্বাইতে রুপো ৩,৮৬,৯৪০ টাকা প্রতি কেজিতে ট্রেড করছে, দিল্লিতে ৩,৮৬,২৭০ টাকা প্রতি কেজি। চেন্নাই এবং হায়দরাবাদে আরও বেশি—প্রায় ৩,৮৮,০৬০ টাকা প্রতি কেজি।
রুপোর দাম বাড়ার কারণ হলো এআই ডেটা সেন্টার এবং সোলার এনার্জি সেক্টরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল চাহিদা বৃদ্ধি, পাশাপাশি শক্ত ফিজিক্যাল সরবরাহ।
এখন কি সোনা কেনার সঠিক সময়?
এটা একটা ট্রিকি প্রশ্ন। যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী হন, তাহলে সোনা সবসময়ই একটা ভালো অপশন। কিন্তু যদি আলংকারিক উদ্দেশ্যে কিনতে চান, তাহলে একটু দাম কমার জন্য অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এক্সপার্টরা বলছেন, “সোনা এবং রুপো একটা শক্তিশালী এবং টেকসই ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ডের মধ্যে আছে, প্রায় প্রতিদিন নতুন ট্রিগার দাম বাড়াচ্ছে”। এর মানে হলো, কাছাকাছি সময়ে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
কীভাবে সোনায় বিনিয়োগ করবেন?
শুধু জুয়েলারি নয়, আরও অনেক উপায়ে সোনায় বিনিয়োগ করা যায়:
১. ডিজিটাল গোল্ড: অনলাইনে ছোট পরিমাণে কিনতে পারবেন, কোনো স্টোরেজ টেনশন নেই।
২. সভরেন গোল্ড বন্ড (SGB): সরকার ইস্যু করে, সুদ পাবেন ২.৫% প্রতি বছর, এবং ম্যাচুরিটিতে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ছাড়।
৩. গোল্ড ETF: শেয়ার বাজারের মতো ট্রেড করতে পারবেন, লিকুইডিটি বেশি।
৪. ফিজিক্যাল গোল্ড: কয়েন, বার বা জুয়েলারি—তবে মেকিং চার্জ এবং GST (৩%) লাগবে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- হলমার্ক চেক করুন: BIS হলমার্ক ছাড়া সোনা কিনবেন না, পিউরিটি নিশ্চিত হবে না।
- বিল রাখুন: ভবিষ্যতে বিক্রি করতে হলে বিল প্রয়োজন।
- মেকিং চার্জ জানুন: জুয়েলারি কিনলে ৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত মেকিং চার্জ যোগ হবে।
- GST ভুলবেন না: সব সোনা কেনায় ৩% GST লাগে।
সোর্স নোট: এই আর্টিকেলের তথ্য GoodReturns, Sunday Guardian Live, 5Paisa, Sakshi Post, BankBazaar, এবং PolicyBazaar-এর ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর আপডেট থেকে নেওয়া হয়েছে। দাম দিনের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে এবং শহর ও জুয়েলারভেদে ভিন্ন হতে পারে।
