চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পড়লেই শুরু হয়ে যাবে মাধ্যমিক (Madhyamik Exam) ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (Higher Secondary)। ঠিক সেই সময়েই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে রেখেছে, ফেব্রুয়ারিতেই প্রকাশিত হবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR West Bengal) চূড়ান্ত তালিকা। ফলে একদিকে পরীক্ষার দায়িত্ব, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ—দু’দিক সামলাতে গিয়ে চাপে রয়েছেন শিক্ষকরা (SIR Teachers)। এই জটিল পরিস্থিতিতে কীভাবে সবকিছু সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েই নবান্নে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত যে সব জেলা স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষকরা মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত থাকবেন, তাঁদেরই একাংশকে একই সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বও সামলাতে হয়। এর মধ্যেই কলকাতা ও শহরতলীর কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বর্তমানে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব চলছে। ফলে পরীক্ষা চলাকালীন ওই শুনানি কোথায় হবে, বিকল্প শুনানি কেন্দ্র কীভাবে নির্ধারণ করা যাবে—এই সব বিষয় নিয়েই সোমবার নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার, বিভিন্ন জেলার জেলা শাসক (ডিএম) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। মাধ্যমিক শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে, ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষেরও বেশি। এই সময় স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীনে জেলা স্কুল পরিদর্শকরা সেন্টার ইনচার্জ, ভেন্যু ইনচার্জ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফলে, যদি পরীক্ষার সময় তাঁরা এসআইআর-এর শুনানিতে ব্যস্ত থাকেন, তবে পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষা দফতর আগেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি লিখে বিশেষ আর্জি জানিয়েছে।
বস্তুত, এসআইআর ঘোষণা করার সময় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছিল, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলিকেও আবেদন ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে আবেদন ও আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৯ ডিসেম্বর। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের সময়সীমাতেই আবেদন ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল।
গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। পরের দিন, ১৭ ডিসেম্বর থেকে কমিশন নাম সংযোজন, সংশোধন বা বাদ দেওয়ার সংক্রান্ত আবেদন ও অভিযোগ গ্রহণ শুরু করে। প্রথমে অভিযোগ ও আবেদন জানানোর শেষ তারিখ ছিল ১৫ জানুয়ারি, পরে নির্বাচন কমিশন সেই সময়সীমা আরও চার দিন বাড়ায়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এসআইআর-এর পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সির কারণে ১৪ তারিখের ডেডলাইন রাখা ক্রমশ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ৭ থেকে ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়া হলেও তা অবাক করার কিছু হবে না। ততক্ষণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও চলবে। এই কারণে আগেভাগেই কী করা যায় বা কী যায় না, তা নিয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে নবান্নে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
