Home Blog Page 4

শীতের দাপট বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে, ৮ জেলায় সতর্কতা জারি

রাজ্যে হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি কমে নেমে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে (Weather Update)। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি এমন ঠান্ডা নতুন নয়, তবে কনকনে শৈত্যপ্রবাহের কারণে এবারের ঠান্ডা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি কষ্টদায়ক মনে হচ্ছে।

এখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও শক্তিশালী হয়ে ডিপ্রেশনে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি ত্রিপুরা ও তার আশেপাশের এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া বইবে, যার ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কনকনে শীত অন্তত আগামী ৪ দিন পর্যন্ত থাকবে। চলুন এক নজরে দেখা যাক আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া (Weather Update)

তাপমাত্রার পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কলকাতায় এই ধরনের ঠান্ডা নতুন নয়। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও পিছনে গেলে দেখা যায়, ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬.৭ ডিগ্রি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাবেও জানুয়ারিতে ঠান্ডার ওঠানামা চোখে পড়ার মতো—২০২৩ সালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৯ ডিগ্রি, আর ২০১৮ সালে তা নেমেছিল ১০.৫ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ, গত ১০ বছরে জানুয়ারি মাসে কলকাতার তাপমাত্রা মূলত ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে।

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় শীতের দাপট বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলিতেও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিতে পারে, ফলে সাধারণ মানুষকে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

উত্তরবঙ্গে আগামীকালের আবহাওয়া

আগামীকালও উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় শীতের দাপট বজায় থাকবে। গোটা সপ্তাহ জুড়ে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে, তবে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা প্রায় সব জেলায় থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে সতর্কতার মাত্রা একটু বেশি—আগামী কয়েক দিনে অধিকাংশ জেলায় ঘন কুয়াশা নামতে পারে, যেখানে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ‘শীতল দিন’ বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

দক্ষিণবঙ্গে শীত আরও বাড়বে? আগামী ৩ দিনের আবহাওয়ার বড় আপডেট

চলতি মরসুমের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেল বছরের শেষ দিনের ঠান্ডা। বুধবার ভোরে কলকাতায় এক ধাক্কায় তাপমাত্রা নেমে আসে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এখনও পর্যন্ত এই মরসুমের সবচেয়ে শীতল দিন। এর আগে মঙ্গলবার শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, তবে বুধবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা, যার জেরে বহু জায়গায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বুধবার এক ধাক্কায় নেমে আসে ১১ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পারদ কমেছে প্রায় ১.৬ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৮ ডিগ্রি কম। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও ১৯.৬ ডিগ্রির বেশি ওঠেনি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৫.৮ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকে বেলা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। তবে দুপুর গড়াতেই আকাশ পরিষ্কার হবে এবং মেঘের দেখা মিলবে না।

গত কয়েক দিনে শহরে জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। অনেকেই মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এমন হাড় কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হয়েছিল। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলেও এবারের শীত যেন অনেকটাই আলাদা ও বেশি কড়া। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, উত্তুরে হাওয়ার চলাচলে এই মুহূর্তে কোনও বাধা না থাকায় রাজ্য জুড়ে তা অবাধে ঢুকছে, আর তার প্রভাবেই তাপমাত্রা আরও নামছে। উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক—কোচবিহার, জলপাইগুড়ির মতো এলাকায় বিকেলের দিকে কুয়াশার দাপটে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে যাচ্ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বুধবার সকালে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই সব এলাকায় দৃশ্যমানতা ১৯৯ মিটার থেকে কমে ৫০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বা়ড়তে পারে। বুধবারের পর থেকেই পারদ চড়তে পারে দুই থেকে তিন ডিগ্রি। তবে হাড় কাঁপানো ঠান্ডার হাত থেকে তাতে কতটা রেহাই মিলবে, স্পষ্ট নয়।