লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নতুন নিয়ম: কীভাবে পাবেন সহজে ভাতা

বাংলা হুড ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের আওতায় সাধারণ শ্রেণির মহিলারা প্রতিমাসে ১,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা ১,২০০ টাকা ভাতা পান। এবার ভোটের আগে রাজ্য বাজেটে ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে এই প্রকল্পকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে। তবে এবার জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বাধ্যতামূলক নয়, যা সুবিধাভোগীদের জন্য সুখবর।

আবেদন প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল

পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আর কোনও বিশেষ শিবির বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যেতে হবে না। বরং ব্লক প্রশাসনিক দফতরে গিয়েই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ পাওয়া যাবে। সেখানেই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিলে ভাতা পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, আগে আবেদন করার জন্য ব্লক অফিস বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হতো, এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে ফর্ম ফিলাপের সুযোগ ছিল। সেই সময়ে আধার কার্ডের নাম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতো।

তবে আগে ফর্ম জমা দেওয়ার সময় আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুকের জেরক্স, রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এবং এসসি/এসটি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে জাতিগত শংসাপত্র জমা দিতে হতো। এবার এসেছে বড়সড় পরিবর্তন—স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আর বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, রাজ্য সরকার এই শর্ত সরিয়ে দিয়েছে। এর ফলে, যারা আগে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারতেন না, তাদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।

মালদহের এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এ বিষয়ে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র দুয়ারে সরকার ক্যাম্প নয়, বরং সারা বছরই ব্লক প্রশাসনিক ভবনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন ফর্ম জমা নেওয়া হয়। তবে এবার থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আর বাধ্যতামূলক নেই। ২৫ বছর থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত মহিলারা এই ভাতা পাবেন। যাতে কোনও মহিলা এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য সর্বত্র সহায়তা করবে প্রশাসন।

বলাই বাহুল্য, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা করে ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা এখন প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণীর মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ইতিমধ্যেই জানুয়ারি মাসের কিস্তি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আগে অনেকেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের কারণে এই প্রকল্পের ভাতা থেকে বঞ্চিত হতেন, কিন্তু এবার আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে, যাতে কোনও মহিলা এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন।

Latest news
Related news